আমাদের সম্পর্কে
নাছরুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন শিক্ষা, দাওয়াহ ও পূর্ণত মানবকল্যাণে নিবেদিত একটি অরাজনৈতিক ও অলাভজনক সেবামূলক সরকার নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান। যার নিবন্ধন নম্বর: CHS-745/2026। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে বিশিষ্ট সমাজসেবক জনাব প্রকৌশলী মো. আহসান উল্লাহ ২০২৫ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। এই প্রতিষ্ঠান মানবতার শিক্ষক, মানুষের মুক্তি ও শান্তির দূত, মানবসেবার আদর্শ, মহানবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে আর্তমানবতার সেবা, সমাজ-সংস্কার, মহোত্তম নীতিচেতনার সঞ্চার, পরিচ্ছন্ন মানসিকতা গঠনে নিরন্তর নানা কর্মসূচি পালন, সর্বোপরি একটি আদর্শ কল্যাণসমাজ বিনির্মাণে যথাশক্তি প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক জীবন ও সমাজ গঠন করা এবং বিশুদ্ধ ইলমের প্রচার ও বিস্তার নাছরুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের অন্যতম লক্ষ্য। সালাফে সালিহীনের পথ ধরে কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা আমাদের নীতি।
পথচলার ইতিহাস
২০০১ সালে প্রধান উপদেষ্টা দ্বীনি দাওয়াতের মাধ্যমে উম্মতের সেবার নিয়তে এ প্রতিষ্ঠানের পথচলা শুরু হয়। দীর্ঘ এই পথ চলায় ধারাবাহিক কাজের অংশ হিসেবে ২০০৬ সালে প্রকৌশল সেবার জন্য ‘একরড ডিজাইন অ্যান্ড কনসাল্টিং’ এবং ২০১৫ সালে শরিয়াহ অনুসরণে ব্যবসা পরিচালনার জন্য ‘লিডস’ (LIDS) প্রতিষ্ঠা করা হয় (যা ২০১৯ সালে কার্যক্রম বন্ধ করে)। পরবর্তীতে ২০২০ সালে করোনা-কালীন সময়ে প্রধান উপদেষ্টা এবং তাঁর কুমিল্লা জিলা স্কুলের বন্ধুদের নিয়ে অনলাইন শুদ্ধ কুরআন শিক্ষা ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষা ও মানবসেবার যে কার্যক্রম শুরু হয়, তা আজও চলমান রয়েছে। ২০২২ সালে সালাতের খিমার ও কুরআনের রেহাল উদ্ভাবনের মাধ্যমে ‘খিদমাতুল উম্মাহ ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তীতে RJSC-তে নিবন্ধনের সময় শরিয়া অ্যাডভাইজরের পরামর্শে ২০২৫ সালে ‘নাছরুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন’ নামে আবেদন করা হয় এবং ২০২৬ সালে তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়।
নীতি ও আদর্শ
- পবিত্র কুরআন ও আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ তথা কর্মনীতিই আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের মূল আদর্শ।
- ইসলামের প্রাথমিক যুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিমদের অনুসৃত পদ্ধতির আলোকে কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা আমাদের নীতি।
- উম্মাহর ঐক্য, সংহতি ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের নীতি মেনে চলা।
- সৎকাজে উৎসাহ দান ও অসৎকাজ থেকে বিরত রাখার মাধ্যমে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সংহতকরণ এবং মানবিক চেতনার জাগরণ।
- ইসলামী দাওয়াহ এবং কার্যক্রমের ক্ষেত্রে উগ্রতা বা কঠোরতা পরিহার করে উদারতা ও সহনশীলতার নীতি অবলম্বন করা এবং দাওয়াহ ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনায় প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
- আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যম হিসেবে দেখা।
- ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য দাওয়াহ ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা।
- জনগণের প্রদত্ত দান অর্থ ও সম্পদকে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আমানত হিসেবে গণ্য করা এবং এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
- সংগৃহীত তহবিল এবং ব্যয়ের প্রতিটি হিসাবের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
- পরিচালনা পর্ষদ এবং কর্মীদের সকল কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
- প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরীক্ষণের ব্যবস্থা রাখা।
- প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরের কর্মীদের মধ্যে সর্বোচ্চ সততা ও নৈতিকতার মান বজায় রাখা। কোনো প্রকার দুর্নীতি বা অনিয়মকে প্রশ্রয় না দেওয়া।
- সকল ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা; শিক্ষা, দাওয়াহ ও সেবামূলক কার্যক্রমে গুণগত মান বজায় রাখা।
- রাজনৈতিক কর্ম ও অবস্থান গ্রহণ থেকে বিরত থাকা এবং যে কোনো রাজনৈতিক দল-উপদল বা গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত থেকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করা।
- দক্ষ ও যোগ্য কর্মী নিয়োগ করা এবং তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করা।
- সেবা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে দরিদ্র, অসহায়, এতিম, বিধবা এবং দুর্যোগ কবলিত মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
- দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা বিস্তার, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিকে মানবিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা।
- সাময়িক সহযোগিতার তুলনায় স্থায়ী দারিদ্র্য বিমোচন ও টেকসই উন্নয়ন আমাদের নীতি।
লক্ষ্য-উদ্দেশ্য
- কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক বিশুদ্ধ ইসলামী জ্ঞানের প্রসার।
- জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগ্য ইসলামী আলোচক ও দা‘য়ী তৈরি করা।
- কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক যুগোপযোগী শিক্ষা গবেষণাকেন্দ্র স্থাপন, পাঠক্রম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা।
- নাছরুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেতনাকে কেন্দ্রে রেখে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা।
- নাছরুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন মাধ্যমে বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে ২০৩০ সাল নাগাদ বছরে ১ লক্ষ বেকার তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
- অসহায় ও দরিদ্র নারীদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করা।
- দরিদ্র ও অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ প্রদান ও সহায়ক কার্যক্রম পরিচালনা।
- শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নানা সামাজিক ও জীবনমুখী বিষয়ের ওপর প্রতিযোগিতার আয়োজন।
- কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা।
- শিরক-বিদআদ এবং প্রান্তিকতা দূরকরণে দাওয়াহ কার্যক্রম পরিচালনা।
- সৎকাজে উৎসাহ দান এবং অসৎকাজ থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যে সুপরিকল্পিত দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা।
- নবী কারীম (সা.)-এর মসজিদের আদলে শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণকর সমাজ গঠনে সহায়ক আদর্শ মসজিদ নির্মাণ ও পরিচালনা।
- বিষয়বিশেষে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার লক্ষ্যে বিভিন্ন এলাকার মসজিদ, মাদরাসা, অডিটোরিয়াম প্রভৃতি সমাগমস্থলে সাপ্তাহিক, মাসিক, বার্ষিক ও উপলক্ষ-সাময়িক দ্বীনি হালাকাহ, মুক্ত মতবিনিময় ও আলোচনা-সভা আয়োজন।
- বিশুদ্ধ ইসলামিক জ্ঞান, আকীদা, কর্মনীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে মৌলিক ও প্রামাণ্য বইপত্র প্রকাশ ও প্রচার।
- ইমাম, খতীব ও দা‘য়ীদের জন্য দাওয়াহ প্রশিক্ষণ।
- ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি নির্ধারিত সিলেবাসের ভিত্তিতে দাওয়াহ প্রদান।
- বিষয়ভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠানের তথ্যচিত্র ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার।
- ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কার সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি।
- ফ্যামিলি কাউন্সেলিং বিভাগ পরিচালনা।
- যুবসমাজ ও শিশু-কিশোরদের দৃঢ় নৈতিক শক্তিতে বলীয়ান করার জন্য ইসলামী ইয়ুথ ক্লাব ও সংস্কৃতিকেন্দ্র পরিচালনা।
- দারিদ্র্য বিমোচন, আর্তমানবতার সেবা ও সমৃদ্ধ দেশ গঠন।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকালে উপদ্রুত অঞ্চলে ত্রাণ বিতরণ ও দুর্যোগ পরবর্তীতে পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা।
- সুপেয় পানির সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় নলকূপ ও পানি শোধনাগার স্থাপন।
- সাদাকায়ে জারিয়াহ, পরিবেশ সুরক্ষা ও স্বাবলম্বীকরণের লক্ষ্যে অধিক ফলনশীল বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা।
- রমযান মাসে অভাবগ্রস্তদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ।
- সচ্ছলদের পক্ষ থেকে কুরবানীর আয়োজন করে অসচ্ছলদের মধ্যে বিতরণ।
- শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীল করার জন্য প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান।
- এতিমদের পরিণত হওয়ার পর্যন্ত অভিভাবকের দায়িত্বে শিক্ষাদান ও প্রতিপালন।
- উপযোগী উপার্জন উপকরণ প্রদানের মাধ্যমে স্থায়ী টেকসই স্বাবলম্বীকরণ কার্যক্রম পরিচালনা।
আয়-ব্যয়ের নীতিমালা
- বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত স্বেচ্ছা অনুদান ও অর্থসহায়তা।
- সদস্য, সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের এককালীন ও নিয়মিত অনুদান।
- ফাউন্ডেশনের যে কোনো প্রকল্পের জন্য সংগৃহীত অর্থ।
- সচ্ছল মুসলিমদের প্রদেয় যাকাত।
- ইফতার ও কুরবানীসহ বিশেষ বিশেষ খাতে উসুলকৃত অর্থ।
- ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের আয়।
- দাতাগণের দানের অর্থ শরয়ী নীতিমালা ও দেশীয় আইনের আলোকে ব্যয় করা হয়।
- দাতাগণ যে খাতের জন্য দান করে থাকেন, সে খাতেই ব্যয় করা হয়। এক খাতের অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করা হয় না।
- যাকাত তহবিলে সংগৃহীত অর্থের শতভাগ হকদারদের মাঝে বণ্টন করা হয়। ব্যবস্থাপনার কাজে যাকাতের অর্থ ব্যয় করা হয় না। এক্ষেত্রে সাধারণ খাতের অর্থ ব্যয় করা হয়।
- প্রতিটি প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ার পর আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সংরক্ষণ করা হয়।
- বছরে একবার চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট দ্বারা ফাউন্ডেশনের আয়-ব্যয়ের হিসাব নীরিক্ষণ করা হয় এবং প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
- জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টামণ্ডলীর সমন্বয়ে গঠিত টিমের তত্ত্বাবধানে নাছরুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের সকল আর্থিক কার্যক্রম মনিটরিং করা হয়।
সরাসরি ব্যবস্থাপনা
- পরিবহন ব্যয়: প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মালামাল পরিবহন, কর্মী ও স্বেচ্ছাসবকদের যাতায়াতের খরচ।
- খাবার: প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োজিত কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের কার্যক্রম পরিচালনাকালীন খাবারের খরচ।
- শ্রমিক বিল: প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শ্রমিকদের পারিশ্রমিক।
- প্যাকেজিং সামগ্রী: উপকরণ সুষ্ঠুভাবে বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্যাকেজিং খরচ।